তিন দিনে তিনচুলে ভ্ৰমণ পরিকল্পনা
কিভাবে যাবেন- নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে গাড়ি করে লামাহাট্টা যাওয়া যায়। ৭০ কিলোমিটার রাস্তা। বাগডোগরা এয়ারপোর্ট থেকেও গাড়িতে যাওয়া যায়। সেখান থেকে তিনচুলে, লেপচাজগৎ ঘুরে আসা যায়।
এক নজরে হোটেল : সরাসরি বুকিং।কোথায় থাকবেন- লামাহাট্টাতে অনেক হোমস্টে আছে। আছে রিসোর্টও। এছাড়া পাবেন লজও।
Booking.com
এক কথায় তিনচুলে - পাহাড়ে জনতার ভিড়ে নয়, প্রকৃতির কোলেনির্জনে। যেখানে চারদিকে থমথমে আর রয়েছে সবুজের নিস্তব্ধতা।
তিন দিনে তিনচুলে ভ্ৰমণ পরিকল্পনা - প্রথম দিন
তিনচুলে মানে তিনটি চুলার সমাহার। এই ছােট্টো পাহাড়ি গ্রামের নাম তিনচুলে হওয়ার কারণ এর তিন দিক পাহাড়ের শৃঙ্গ দিয়ে ঘেরা। তিনচুলে তার সবুজ সৌন্দর্যের পসরা নিয়ে বসে আছে। চার দিকে শুধু সবুজ জঙ্গল। মাঝে আছে বহু পুরাতন এক বৌদ্ধ গুম্ফা। চারদিকে থমথমে সবুজ নিস্তব্ধতা। গাড়ি থামিয়ে কাঁচা রাস্তা ধরে পায়ে। হেঁটে আমরা গুম্ফা পৌঁছলাম। ছােট গুম্ফা। চারদিক পরিষ্কার, পরিচ্ছন্ন।
এক নিস্তব্ধতা বিরাজমান। ভিতরে। ভগবান বুদ্ধের অধিষ্ঠান। আমরা কিছুক্ষণ গুম্ফা ঘুরে ফিরে এলাম। একটু আগেই বৃষ্টি হয়েছে। সবুজ পাতায় টলটল করছে জলের ফোঁটা।আলতো ছোঁয়ায় এই বুঝি ঝরে পড়বে। সামনেই এক ভিউ পয়েন্টের উপর উঠে দেখি পাহাড়ি সৌন্দর্য। এই সৌন্দর্য ভাষায় বর্ণনা করা যায় না। শুধু দু’চোখ ভরে উপভোগ করতে হয়।
মেঘে মেঘে বেলা বেড়েছে বুঝতে পারিনি। সেই কখন মামা খেয়েছি। অনুভব করলাম বেশ খিদে পেয়েছে। দেরি না করে বেরিয়ে পড়লাম। চালক ডেভিড দা জানান, লােপচু বাজার ছাড়া ভালাে খাবার পাবেন না। অগত্যা গন্তব্য লােপচু। গাড়ি ঘুরপথে চা বাগানের মাঝ দিয়ে চলেছে। দুই’পাশে মখমলের মত সবুজ চা বাগান। মাঝে মাঝে মেঘেরা আমাদের ছুঁয়ে ছুঁয়ে যাচ্ছে। কখনও চড়াই। কখনো উৎরাই। গাড়ি এগিয়ে চলেছে। এরকম নির্জন, মনােরম রাস্তা দিয়ে গাড়ি চেপে যেতে ইচ্ছে করে না। ইচ্ছে করছিল, পায়ে হেঁটে যাই। নিজের মতো নির্জনতা উপভোগ করি। কিছুক্ষণের মধ্যেই নির্জনতা ছেড়ে জনপদে ঢুকে পড়লাম। লোপচু বাজার। বেশ জমজমাট বাজার। ডেভিডদা আমাদের ভাতের দোকানে নিয়ে গেল। খাটি ভেতাে বাঙালি আমি। তাই ভাতের দোকান দেখে খুব খুশি। অর্ডার দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই খাবার এল। Sikkimese থালি। আতপ চালের ভাতের সঙ্গে আচার, চাটনির আধিক্য বেশি হলেও খাবারের স্বাদ মুখে লেগে আছে।
বৃষ্টি শুরু হয়ে গিয়েছিল। সঙ্গে শীতের কামড়। তাই সে দিনের মতাে রিসর্টে ফিরে এলাম। লামাহাটা পার্ক দর্শন সে দিনের মতাে স্থগিত রাখা হল। পার্কের পাশ দিয়ে আসার সময়ে দেখি বৃষ্টিতে চুপচুপে ভিজেও পর্যটকের সংখ্যা কম নয়। রিসর্টে ফিরেই চায়ের অর্ডার দিলাম। সে রাতে বাইরে রেস্তরাঁতে খেতে গিয়ে স্থানীয় একটি ছেলের সুরেলা গলায় গাওয়া এক নেপালি গান আমাদের এক অন্য জগতে নিয়ে গিয়েছিল। ওই গানের কলি ভাঁজতে ভাজতে সােজা ঘুমের দেশে। পরদিন লেপচাজগত যাব। আর যাবো টাইগার হিল।
তিন দিনে তিনচুলে ভ্ৰমণ পরিকল্পনা -দ্বিতীয় দিন
পর দিন প্ল্যান মাফিক তাড়াতাড়ি বেরিয়ে পড়লাম। সেই একই আবহাওয়া। মেঘেদের ছুঁয়ে ছুঁয়ে গাড়ি চলছে। গন্তব্যে লেপচাজগত। লামাহাটা থেকে মাত্র ২৩ কিলোমিটার। জনপ্রিয় উইকেন্ড ডেস্টিনেশন। পাইন, ওক, রডোডেনড্রনে সজিয়ে রেখেছে লেপচাজগতকে । কাঞ্চনজঙ্ঘা মেঘেদের লুকোচুরি খেলার চোটে তুষারধবল পাহাড় চূড়া দেখা হল না। তবে যা দেখলাম তাই বা কম কি?
join.booking.com
পাইন বনের গন্ধে মম করছে ভিজে বাতাস। তার সঙ্গে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি। রাস্তার পাশের দোকানের গরম গরম মোমো আর গরম চা। আর কি কিছু বলার অপেক্ষা রাখে?
বৃষ্টির ফোঁটা বড় হচ্ছে, আমরা টাইগার হিলের দিকে রওনা দিলাম। পাঁচ বছর আগে এসেছিলাম যদিও কাঞ্চনজঙ্ঘার দর্শন পাইনি। মনে আশা। নিয়ে গিয়ে আরও এক বার হতাশ হলাম। আকাশ ঢাকা কালো মেঘে। বড় বড় বৃষ্টির ফোঁটা পড়ছে। সর্বাঙ্গ ভিজে গাড়িতে উঠে সােজা লামাহাটা পার্ক। টিকেট কেটে ভিতরে ঢুকতে হয়। পাহাড়ের ধাপ কেটে কে পার্ক বানানাে হয়েছে। নাম না জানা ফুলের গাছ, অর্কিড সব মিলে খুব সুন্দর ও ছিমছাম। পাহাড়ের উপরে উঠে আছে টলটলে পবিত্র জলাশয়। আমরা হেঁটে
সেখানে পৌঁছতে পেরেছিলাম শেষ পর্যন্ত। আবার দেখি মেঘেরা নেমে এসেছে রাস্তায়। আবার এক পশলা বৃষ্টি শুরু। আর দেরি না করে সোজা রিসর্টে চলে এলাম। আজ মেঘে ঢাকা রাত্রি। আজ আর আলোয় মোড়া দার্জিলিং দেখা যাচ্ছে না। কিন্তু খেলা ঐ ছাদে অনেকক্ষণ বসে ছিলাম। যখন ঘরে এলাম। রাত বেশ গভীর। রান্নাঘর থেকে বাসন ধোয়ার শব্দ আসছিল।
তিন দিনে তিনচুলে ভ্ৰমণ পরিকল্পনা -তৃতীয় দিন
পরের দিন ফেরার পালা। কিন্তু পাহাড় ছেড়ে যেতে মন চাইছে না। এ ক’দিন উজাড় করা পাহাড়ি প্রকৃতির রূপে ডুব দিয়েছি। সেখান থেকে স্মৃতিগুলিকে কুড়িয়ে এনে রেখে দিয়েছি মনের ভেতর। এখনও তাজা আছে তা।